সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা- বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘ভয়াবহ অসুস্থ বেগম জিয়াকে জেলে রেখে হত্যার নীলনকশা বাস্তবায়ন শুরু করেছে। একারণে শেখ হাসিনার সরাসরি নির্দেশে তাকে জামিন দেয়া হচ্ছে না। এখন আর ঘরে বসে থাকার সময় নেই । এই মিডনাইট সরকারের পতন ঘটাতে না পারলে নেত্রীকে মুক্ত করা সম্ভব নয়।’
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন আদালতে খারিজ করে দেওয়ার প্রতিবাদ এবং অবিলম্বে তার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে রাজধানীতে এক বিক্ষোভ মিছিল শেষে এসব কথা বলেন তিনি। বিএনপি ও দলটির অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা মিছিলে অংশ নেন।
রবিবার (১৫ ডিসেম্বর) পূর্বঘোষিত কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল ১১ টার দিকে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির উদ্যোগে বাড্ডার সুবাস্তু নজরভ্যালি টাওয়ারের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলে নেতৃত্ব দেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। পুলিশ মিছিল থেকে চার জনকে গ্রেফতার করেছে বলে দাবি করেছেন রিজভী।
মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত পথসভায় প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে রিজভী বলেন, ‘আজকে নিজের ঘরের দিকে তাকান না প্রধানমন্ত্রী। আমি বলবো আগে নিজেদের চেহারা আয়নায় দেখুন আর ভাবুন যে কারা খুনিদের পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন? ‘
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপরিবারে মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, সেসময় শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপরিবারে হত্যাকাণ্ডের পর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগেরই বহু নেতা তাদের আত্মতৃপ্তির কথা বলেছিলেন। তাদেরই একজন আব্দুল মালেক উকিল লন্ডনে থাকাবস্থায় বলেছিলেন যে, ‘ফেরাউনের পতন হোক’। এমনকি খন্দকার মোশতাকের শপথবাক্য পাঠ করান তৎকালীন মন্ত্রিপরিষদ সচিব এইচটি ইমাম। আজকে যিনি প্রধানমন্ত্রীর অন্যতম সিনিয়র উপদেষ্টা। কই প্রধানমন্ত্রী তো সে বিষয়ে কিছু বলেননি। অথচ পরবর্তীতে মালেক উকিলসহ হত্যাকাণ্ডের সমর্থনকারী বহু নেতাই তো শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এমপি-মন্ত্রী হয়েছেন।
বিএনপির এ নেতা আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী জিয়াউর রহমান সম্পর্কে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার অপচেষ্টায় লিপ্ত। কিন্তু এ দেশের মানুষের কাছে শহীদ জিয়া একজন অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব। জনগণের মাঝে শহীদ জিয়ার জনপ্রিয়তা অত্যন্ত উঁচুমানের। তার বিরুদ্ধে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে কোনো লাভ হবে না।’
0 Comments